পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে হাজারো পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল একটি গাছ। দুই দিন আগে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলায় বদলে গেছে পাখিদের সেই চিরচেনা ঠিকানা। আশ্রয় হারিয়ে এখন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তারে ঠাঁই নিয়েছে পাখিগুলো। সন্ধ্যা নামলেই তারের ওপর সারি সারি পাখির দেখা মিলছে। এমন দৃশ্য দেখে আক্ষেপ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে তেগাছিয়া খেয়াঘাট যাওয়ার সড়কের পাশে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মেকারের দোকানের সামনে থাকা ওই গাছটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিরা এসে গাছটিতে আশ্রয় নিত। কেউ ডালে বসত, আবার কেউ ডালের আড়ালে রাত কাটাত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে সন্ধ্যার পর মুখর হয়ে উঠত পুরো এলাকা। ভোর হলে খাবারের সন্ধানে আবার দূরে উড়ে যেত তারা।
তবে হঠাৎ গাছটির ডালপালা কেটে ফেলায় বিপাকে পড়েছে পাখিগুলো। নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে বাধ্য হয়ে এখন বিদ্যুতের তারে অবস্থান করছে তারা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, গাছটির ডালপালা কেটে ফেলার ফলে শুধু একটি গাছেরই ক্ষতি হয়নি, নষ্ট হয়েছে অসংখ্য পাখির আবাসস্থলও। বিদ্যুতের তারে অবস্থান নেওয়া পাখিগুলো যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পাখিগুলো বছরের পর বছর ওই গাছটিতে থাকত। গাছের ডাল কেটে দেওয়ার পর ওরা কোথায় যাবে, সেটাই বুঝতে পারছে না। বাধ্য হয়ে এখন বিদ্যুতের তারে বসছে। এমন দৃশ্য সত্যিই কষ্ট দেয়।’
আরেক বাসিন্দা মো. সাঈদ বলেন, ‘পাখিগুলো যেন ঘরহারা মানুষের মতো আশ্রয়ের জন্য ছুটছে।’
স্থানীয়রা পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পাখির আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত গাছের ডালপালা নির্বিচারে কাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত গাছের ডালপালা কাটার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাখি ও জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা মনিরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন






