জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ক্ষতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের কোনো করুণা বা অনুদানের প্রয়োজন নেই। বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের প্রাপ্য বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরতে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। আজকের প্রজন্ম ফোরাম (এপিএফ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান)।
চিফ হুইপ বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশটি। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে, দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল ও মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জলবায়ু তহবিলের অর্থ সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি তুলে ধরতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাঈদ বিন আবদুল্লাহ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে এবং ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আজকের প্রজন্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মামুন রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইউক্যানের জনসংযোগ সমন্বয়ক মুনতাসির তাসরিপ।
সংলাপে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়। জলবায়ু নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
আলোচনায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি থ্রি পয়েন্ট জিরো) এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আয়োজকেরা জানান, সংলাপে উঠে আসা মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নীতিগত নথি তৈরি করা হবে। এটি বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কপ-৩১ সম্মেলনে দেশের দাবি তুলে ধরতে সহায়তা করবে।






