নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রামে একটি বিপন্নপ্রায় মেছো বাঘকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী প্রাণীটিকে ঘেরাও করে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাণীটি দীর্ঘদিন ধরে হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ওপর হামলা চালাচ্ছিল। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, নিহত প্রাণীটি ছিল বিরল বন্যপ্রাণী মেছো বাঘ বা মেছো বিড়াল।
এ ঘটনা আমাদের সমাজে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার ঘাটতির একটি করুণ উদাহরণ। মেছো বাঘ সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না; বরং মানুষ দেখলে এরা পালিয়ে যেতে চায়। মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর ইত্যাদি খেয়ে এরা জলাভূমির পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। অথচ ভয় ও ভুল ধারণার কারণে নিরীহ প্রাণীটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এ ধরনের প্রাণী হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু শুধুমাত্র আইন করলেই হবে না, প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। বন বিভাগেরও উচিত দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণী উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
একটি বিপন্ন প্রাণীর মৃত্যু শুধু একটি জীবের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় ক্ষতি। তাই বন্যপ্রাণী দেখলেই আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া এবং সচেতন আচরণ করাই হওয়া উচিত সবার দায়িত্ব।






