নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

নেপালের রাসুয়া জেলায় চীন-নেপাল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বসতি, বাজার, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা গেলেও এবারের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে রাসুয়া জেলায় ভোরের দিকে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর দুই পাড়ের বসতি, বাজার, রাস্তা, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তছনছ হয়ে যায়।

বন্যার প্রভাব পরে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বন্যার পর শত শত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৮৪ জন ট্রাভেলার ও পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি পর্যটক ও ভ্রমণকারী। বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে রাসুয়ায় নির্মাণাধীন ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার লাংটাং খোলা হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের ৬০ জন কর্মীও নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে একজন প্রকৌশলী রয়েছেন। নেপালের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বন্যার সময় তাঁরা একটি টানেলের ভেতরে কংক্রিটের কাজ করছিলেন।

দুর্যোগের প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং এলাকাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে ভূমিধসের কারণে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে।

নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে অনেক স্থানে পানির উচ্চতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

কী কারণে এই আকস্মিক বন্যা?

এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি তদন্ত ও অনুসন্ধান করছেন।

তবে হিমালয়ের এই অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তন, ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গত বছরও এ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল, যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি বেরিয়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।

এবারের বিপর্যয়ের পেছনেও একই ধরনের কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। উদ্ধারকাজ ও অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এই ভয়াবহ দুর্যোগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

ঘণ্টায় ২২৭ কি.মি. বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন চামপি, ছয় মিটার...

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন চামপি তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে আসায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে...
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
0
minutes

ডাইনোসর বিলুপ্ত, তবু টিকে গেল কুমির: রহস্য উন্মোচন

পৃথিবী থেকে একসময় হারিয়ে গেছে বিশালাকার ডাইনোসর। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে এক গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে...
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য
0
minutes

মিঠাপানির প্রবাহ কমায় বদলে যাচ্ছে সুন্দরবনের উদ্ভিদসমাজ, বাড়ছে কাঁকড়া গাছ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এক দশকের ব্যবধানে বীজ থেকে চারা জন্মানোর হার কমেছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে...
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য
0
minutes

PFAS-এর দূষণ: প্রকৃতির বুকে মানুষের তৈরি দীর্ঘস্থায়ী বিপদ

আধুনিক জীবনকে সহজ করতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য কৃত্রিম রাসায়নিক। এর মধ্যে কিছু রাসায়নিক পরিবেশে সহজে ভাঙে না, বছরের পর বছর টিকে থাকে এবং পানি,...
দূষণ ও দখল
0
minutes
spot_imgspot_img