ইসমাইল মাহমুদ, শ্রীমঙ্গল
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রাম কুঞ্জবন থেকে বিরল প্রজাতির সাইবোল্ডের জলসাপ (Siebold’s Water Snake) উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে সাপটিকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুঞ্জবন গ্রামের একটি বাড়ির পাশের জমিতে স্থানীয় লোকজন একটি ছোট সাপ দেখতে পান। সাপটি তাদের অপরিচিত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল কবীর বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, আগে এ ধরনের সাপ তারা দেখেননি। সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করতে এর ছবি সাপ বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার সিজারের কাছে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিশ্চিত করেন, এটি সাইবোল্ডের জলসাপ।
সাপ বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার সিজার জানান, এটি অত্যন্ত বিরল একটি প্রজাতি। বাংলাদেশে এ সাপের কোনো বহুল প্রচলিত বাংলা নাম নেই। দেশের রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে মাঝেমধ্যে এ সাপের দেখা মেলে বলেও জানান তিনি।
সাইবোল্ডের জলসাপের বৈজ্ঞানিক নাম Ferania sieboldii। এটি Homalopsidae পরিবারের একটি জলচর সাপ। ইংরেজিতে একে Siebold’s Water Snake, Siebold’s Mud Snake বা Siebold’s Smooth-water Snake বলা হয়।
সাপটির শরীর তুলনামূলক মোটা। পিঠের রং সাধারণত কালচে, ধূসর-বাদামি কিংবা বাদামি এবং সেখানে অনিয়মিত গাঢ় ছোপ বা দাগ দেখা যায়। শরীরের গঠন ও দাগের কারণে অপরিচিত মানুষের কাছে এটি অন্য কোনো সাপের সঙ্গে সহজেই গুলিয়ে যেতে পারে।
এটি জলাভূমিনির্ভর সাপ। নদী, খাল, পুকুর, প্লাবনভূমি এবং অন্যান্য মিঠাপানির জলাশয়ের আশপাশে এদের দেখা যায়। পানিতে জীবনযাপনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এদের শরীরেও কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নাসারন্ধ্র তুলনামূলকভাবে মাথার ওপরের দিকে অবস্থান করায় পানিতে থাকা অবস্থায়ও শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
সাইবোল্ডের জলসাপ মূলত জলজ পরিবেশের প্রাণী। খাদ্যতালিকায় রয়েছে মিঠাপানির মাছ, ব্যাঙ ও কুনোব্যাঙসহ বিভিন্ন উভচর প্রাণী। ফলে জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খলে এ সাপেরও একটি ভূমিকা রয়েছে।
উদ্ধার করা সাইবোল্ডের জলসাপটির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক। তিনি জানান, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সাপটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।






