হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় দেখা দিয়েছে নতুন ঝুঁকি। এতে নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি তাদের বেঁচে থাকার আশাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হিমালয়ের বুকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই নেপাল-চীন সীমান্তে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় ত্রিশূলী উপত্যকার উদ্ধার অভিযান। কয়েক ঘণ্টা পর আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হলেও নতুন বিপদের আশঙ্কা কাটেনি।
স্থানীয় এক তরুণ বলেন, ‘এই বন্যা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। আমরা তরুণ হলেও হাঁটাচলা করা ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তাহলে ভাবুন, এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক মানুষদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে!’
নিখোঁজদের অপেক্ষায় পরিবার
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যার পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রাণহানি ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এখনো নিখোঁজ মানুষের তালিকাও দীর্ঘ। বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশই ভারতের তীর্থযাত্রী। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু আমার কর্মীদের খোঁজ করছি। তারা বেঁচে আছে কি না, তাদের কী হয়েছে, সেটা জানতে চাই। আর তাদের পরিবারের কথাও ভাবতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, নিখোঁজদের অনেকেই নিজ নিজ পরিবারের মূল ভরসা। তাই তাদের পরিবারগুলোর কথাও তাকে ভাবতে হচ্ছে।
এদিকে নেপালের নুয়াকোট জেলায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকারীদের তালিকায় প্রিয়জনের নাম খুঁজছেন তারা। কখনো কোনো খবর আসবে, এই আশায় উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটছে তাদের।
হিমালয়ে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক ঝুঁকির আরেকটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পাহাড়ি পরিবেশের অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
একদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা উদ্ধারকারীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে হিমালয়ের দুর্গম জনপদে স্বজন হারানো মানুষগুলোর অপেক্ষা যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কাও।






