বিগত কয়েক শতকে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবৈধ শিকার, বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবকে এসব প্রাণীর বিলুপ্তির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ৩১টি প্রজাতির মধ্যে ১১টি স্তন্যপায়ী, ১৯টি পাখি এবং একটি সরীসৃপ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) ২০১৫ সালের সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিগত কয়েক শতকে এসব বন্যপ্রাণী দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে।
দেশে বন্যপ্রাণীর ১ হাজার ৬১৯ প্রজাতি
আইইউসিএনের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৬১৯টি বন্যপ্রাণী প্রজাতি চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯টি উভচর, ১৬৭টি সরীসৃপ, ৫৬৬টি পাখি, ১৩৮টি স্তন্যপায়ী, ২৫৩টি স্বাদু পানির মাছ, ১৪১টি ক্রাস্টেশিয়ান (কাঁকড়া-চিংড়ি জাতীয়) এবং ৩০৫টি প্রজাপতির প্রজাতি।
দীর্ঘ এক দশক পর ২০২৬ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীদের রেড লিস্ট হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বিপন্ন প্রজাতিগুলোর বর্তমান চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিচালনায় গতি আনতে এ বছর একটি পৃথক ‘ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন করা হয়েছে বলে জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত অপরাধ দমন, অবৈধ পাচার রোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন অধিদপ্তরের অধীনে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট’ কাজ করছে।
বেড়েছে সুন্দরবনের বাঘ
প্রকৃতি রক্ষায় চলমান সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাঘ, এশীয় হাতি ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ২০১৫ সালের ১০৬টি থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি ও শকুন সংরক্ষণে প্রকল্প
এদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন মেয়াদে একটি বিশেষ হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অতিবিপন্ন শকুন রক্ষায় সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে ৪৭ হাজার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে শেরপুর, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও রাজশাহীতে চারটি নতুন বিভাগীয় কার্যালয় অনুমোদনের কথাও জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী।
বন্যপ্রাণীর ৩১টি প্রজাতি ইতোমধ্যে দেশ থেকে হারিয়ে গেলেও অবশিষ্ট প্রজাতিগুলো রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার ও পাচার বন্ধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: Channel S






