সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এ সময় বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এমনকি একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী তিন মাসে ছয় থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। দেশের নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহও আগস্ট মাসের মতোই থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ২৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ তিন মাসে ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথাক্রমে ২৬৩, ১৬০ ও ২৬ মিলিমিটার।
ময়মনসিংহে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত হতে পারে যথাক্রমে ৩১০–৩৩০, ১৬০–২১০ ও ১০–২০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে এ পরিমাণ হতে পারে ৩৩০–৩৬০, ২০০–২৪০ ও ৩০–৫০ মিলিমিটার।
সিলেটে সেপ্টেম্বরে ৩৬০–৩৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৬০–২২০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০–৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে যথাক্রমে ২৬০–২৮০, ১২০–১৪০ ও ১০–২০ মিলিমিটার। রংপুরে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭০–৩৯০, ১৩০–১৮০ ও ৫–১৫ মিলিমিটার।
খুলনায় সেপ্টেম্বরে ২৭০–২৯০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১২০–১৭০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২৫–৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে বরিশালে এ তিন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত যথাক্রমে ৩২০–৩৪০, ২১০–২৪০ ও ৪০–৫০ মিলিমিটার।
তিন থেকে পাঁচ দফা তাপপ্রবাহের শঙ্কা
শুধু বৃষ্টিপাত নয়, আগামী তিন মাসে তাপমাত্রাও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মৃদু এবং ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আগস্টে বৃষ্টি কমেছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টির চিত্র ছিল ভিন্ন। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সিলেট ও বরিশালে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিক। অন্যদিকে বাকি বিভাগগুলোতে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
আগস্টে বঙ্গোপসাগরে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। মৌসুমি বায়ু, লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। ওই মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় হাতিয়ায়।
আগস্টেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল তাপমাত্রা
বৃষ্টির পাশাপাশি আগস্টে দেশের তাপমাত্রাও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। মাসটিতে সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ০ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৫ ও ০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
গত ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম থাকলেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনা এবং একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে থাকা এবং কয়েক দফা তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস থাকায় তিন মাসজুড়েই আবহাওয়ায় অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।






