বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন কৌশল হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগ। আকাশ থেকে নজরদারির মাধ্যমে বন্যপ্রাণী শিকার ও ফাঁদ শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের (ডব্লিউসিসিইউ) সদস্য আবদুল্লাহ আস সাদেক পাখি শিকারিদের ধরার দায়িত্বে কাজ করছেন। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গোপালগঞ্জের একটি পাখি অভয়ারণ্যে ড্রোন পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে অনুশীলন চালান তিনি।
একদিন বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি বিলের ওপর দিয়ে ড্রোন ওড়ানোর সময় তিনি দূরবর্তী জলাভূমির বিভিন্ন স্থানে পাখির ফাঁদ দেখতে পান। বিলটি ছিল অগভীর ও নিচু এলাকা হওয়ায় সেখানে সাধারণত ছোট দেশি নৌকা ছাড়া যাতায়াত কঠিন।
ড্রোনের ক্যামেরায় দেখা যায়, বিলজুড়ে পাতলা নাইলনের সুতোর ফাঁস দিয়ে পাখির ফাঁদ পাতা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তিচালিত লাউডস্পিকারে কৃত্রিম পাখির ডাক বাজানো হচ্ছিল। সেই ডাক শুনে পরিযায়ী পাখিরা জলাশয়ে নেমে আসে এবং ফাঁদের কাছে গিয়ে আটকা পড়ে।
আবদুল্লাহ আস সাদেক জানান, জলাশয়ের তলদেশ অসম হওয়ায় পুরো এলাকা নৌকায় টহল দিতে অন্তত এক দিন সময় লাগত। কিন্তু ড্রোন ব্যবহার করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফাঁদগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ফাঁদ জব্দ করা হয় এবং বেশ কয়েকটি পাখি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই শিকারিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার প্রতিরোধে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তর থেকে এক সেট আধুনিক সরঞ্জাম পেয়েছে ডব্লিউসিসিইউ। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ড্রোন, ওয়্যারলেস ওয়াকি-টকি সেট, জিপিএস ট্র্যাকার, উচ্চ রেজোলিউশনের ডিএসএলআর ক্যামেরা, জিপিএস-সক্ষম অ্যাকশন ক্যামেরা, প্রাণীর আইডি মাইক্রোচিপ, আইডি চিপ রিডার, বোরস্কোপ ক্যামেরা, নাইট-ভিশন বাইনোকুলার, ফরেনসিক ও ট্রানকুইলাইজিং সরঞ্জাম।
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোও এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ২০১২ সালে নেপাল চালকবিহীন আকাশযান, ক্যামেরাসংযুক্ত রিমোট কন্ট্রোল ড্রোন ও জিপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। পরের বছর ভারতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে শুরু করে।






