বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার পাখি, ১০ হাজারের বেশি সরীসৃপ এবং প্রায় ১৩ হাজার স্তন্যপায়ী প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে জব্দ করা হয়েছে বন্যপ্রাণীর শরীরের বিভিন্ন অংশের প্রায় ১৪ হাজার ৫০০টি নমুনা।
ডব্লিউসিসিইউ সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে ইউনিটটি ২৬ হাজারের বেশি বন্যপ্রাণীসংক্রান্ত অপরাধ শনাক্ত করেছে। পাশাপাশি শিকার ও পাচারের অভিযোগে ২১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
এসব অপরাধের অধিকাংশই শনাক্ত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় সংরক্ষণ সংগঠন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে। ডব্লিউসিসিইউ সদস্য আবদুল্লাহ আস সাদেক জানান, ইউনিটটি বর্তমানে প্রায় ১৫০টি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দলের সঙ্গে কাজ করছে। এসব দলে ১০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা ফোন কল, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী শিকার, পাচার বা বিপদগ্রস্ত প্রাণীর তথ্য ডব্লিউসিসিইউ-কে জানিয়ে থাকেন। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
ডব্লিউসিসিইউ-এর পরিচালক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, জনবলসংকট ইউনিটটির বড় চ্যালেঞ্জ। তবে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। যদিও দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষও স্মার্টফোন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণীর ছবি, অবস্থান এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য অনেক সময় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়।
২০২০ সাল থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর সঙ্গে ডব্লিউসিসিইউ-কে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব চারটি হটলাইনও চালু রয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কিছু ইউটিউবার ও ভিডিও নির্মাতাও বন বিভাগের পরিদর্শকদের সঙ্গে কাজ করছেন।
সম্প্রতি ডব্লিউসিসিইউ ‘আইটু সফটওয়্যার’ ব্যবহার শুরু করেছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী অপরাধ, অপরাধের ধরন, অপরাধী চক্র, তাদের নেটওয়ার্ক ও অপরাধপ্রবণ এলাকার তথ্য বিশ্লেষণ করে ইনফোগ্রাফিক্স তৈরি করা যায়।
বিশেষজ্ঞ জেনিফার নল মনে করেন, তদন্ত পরিচালনার সময় এসব তথ্য হাতে থাকলে শিকারি শনাক্ত ও তাদের বিচারের আওতায় আনা সহজ হয়। তার মতে, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে তথ্য ও প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।






